অফিসার্স ক্লাব, ঢাকা

১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘অফিসার্স ক্লাব, ঢাকা’ প্রজাতন্ত্রের সিনিয়র কর্মকর্তাদের একটি প্রধান সামাজিক মিলনস্থল হিসেবে সুপরিচিত। সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ব্যাংক ও বীমা খাতের কর্মকর্তারাও এই ক্লাবের সদস্য হতে পারেন। প্রায় সাড়ে চার একর জমির ওপর অবস্থিত এই ক্লাবটি একটি নির্বাহী কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যার সভাপতি হলেন সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব। প্রতি দুই বছর অন্তর গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এই নির্বাহী কমিটির সদস্যরা নির্বাচিত হন।

ক্লাবের সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, বড় হলঘর, পেভিলিয়ন, সুইমিংপুল, আধুনিক হেলথ ক্লাব এবং তিনটি টেনিস কোর্ট। এছাড়া ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, বিলিয়ার্ড, তাস ও দাবাসহ বিভিন্ন ইনডোর খেলাধুলার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগের সুবিধার্থে ক্লাব মাঝে মাঝে ডিনার ও হাউজি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। ক্লাবের একটি মহিলা কমিটিও রয়েছে, যার নেতৃত্বে থাকেন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের স্ত্রী; এই কমিটি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজ ও সামাজিক অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকে। এছাড়া সভা, সম্মেলন, বিবাহ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য ক্লাবের হলঘর ও পেভিলিয়ন ভাড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

আরো পড়ুন:  দৈনিক আজাদ

২৭ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই ক্লাবের বর্তমান সদস্যসংখ্যা প্রায় ৩,০০০। নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে যে কোনো কর্মকর্তা এখানে সদস্যপদ পেতে পারেন। বিনোদনের পাশাপাশি ক্লাবটি জাতীয় চেতনা ও মূল্যবোধ চর্চায় সক্রিয় ভূমিকা রাখে। দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে নিয়মিত আলোচনার আয়োজন করা হয়। এছাড়া স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, জাতীয় শোক দিবস, নববর্ষসহ বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসব এবং রবীন্দ্র-নজরুল জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী ক্লাবে আড়ম্বরের সাথে উদযাপিত হয়। সদস্যদের বিনোদনের জন্য বার্ষিক নৌভ্রমণ ও ঈদ পুনর্মিলনীর ব্যবস্থাও থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আর্তমানবতার সেবায় এবং সরকারি ত্রাণ তহবিলে অর্থসাহায্য প্রদানের মাধ্যমে ক্লাবটি তার সামাজিক দায়বদ্ধতাও পালন করে থাকে।

আরো পড়ুন:  দৈনিক পূর্বদেশ