‘দক্ষিণ বিক্রমপুর’ বলতে ঐতিহাসিকভাবে বিক্রমপুর অঞ্চলের একটি নির্দিষ্ট অংশকে বোঝানো হতো। প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বিক্রমপুর পরগনার ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও কাল পরিক্রমায় নদী ভাঙনের ফলে এটি দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত ছিল—উত্তর বিক্রমপুর ও দক্ষিণ বিক্রমপুর।
ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ বিক্রমপুর সম্পর্কে কিছু মূল বিষয় নিচে তুলে ধরা হলো:
-
অবস্থান ও সীমানা: অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে (১৭৮১ সালের মানচিত্র অনুযায়ী) কালিগঙ্গা নদী এই অঞ্চলটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছিল। সেই সময়কার মানচিত্র ও জরিপ অনুযায়ী, বিক্রমপুর অঞ্চলের দক্ষিণের অংশটি ‘দক্ষিণ বিক্রমপুর’ হিসেবে পরিচিত ছিল। ভৌগোলিকভাবে এই অঞ্চলের বিস্তার ছিল তৎকালীন বৃহত্তর ঢাকা ও ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন অংশে।
-
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: মুঘল আমলে বিক্রমপুর পরগনার প্রশাসনিক বিভাজন এবং পরবর্তীতে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর সময়ে অঞ্চলটিকে তালুকে বিভক্ত করার প্রক্রিয়ায় এই বিভাজনটি আরও স্পষ্ট হয়। ঐতিহাসিক অনেক দলিলে দেখা যায়, দক্ষিণ বিক্রমপুরের অন্তর্গত শ্রীপুর নগরীতে বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম বীর কেদার রায় ও চাঁদ রায়ের রাজধানী ছিল।
-
ভৌগোলিক পরিবর্তন: পদ্মা ও অন্যান্য নদীর প্রবহমানতা এবং নদী ভাঙনের কারণে প্রাচীন বিক্রমপুরের ভৌগোলিক সীমারেখা বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। কালের বিবর্তনে দক্ষিণ বিক্রমপুরের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং এর বিস্তৃতি বিভিন্ন সময়ে শরীয়তপুর বা ফরিদপুর জেলার দিকে প্রসারিত ছিল।
-
বর্তমান পরিচয়: বর্তমানে ‘দক্ষিণ বিক্রমপুর’ নামে কোনো প্রশাসনিক এলাকা নেই। ঐতিহাসিক বিক্রমপুরের মূল অংশটি এখন প্রধানত মুন্সীগঞ্জ জেলা হিসেবে পরিচিত। তবে ঐতিহাসিকভাবে দক্ষিণ বিক্রমপুরের সাথে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর অধিবাসীরা তাদের গৌরবময় অতীতের পরিচয় দিতে এখনো গর্ববোধ করেন।
সংক্ষেপে, দক্ষিণ বিক্রমপুর ছিল প্রাচীন বিক্রমপুর পরগনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা নদী-বিধৌত এক সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। নদী ভাঙন ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের ফলে এটি কালের স্রোতে তার আগের ভৌগোলিক অস্তিত্ব হারিয়েছে, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় এটি এখনো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।