মূলধন (Capital) বলতে কোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগ শুরু করার জন্য বা চলমান ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিনিয়োগকৃত যাবতীয় সম্পদকে বোঝায়, যা মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। এটি কেবল নগদ অর্থ নয়, বরং ব্যবসার প্রয়োজনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, কারখানা ভবন, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং মেধাসম্পদ, সবই মূলধনের অন্তর্ভুক্ত। অর্থনীতির ভাষায়, মূলধন হলো উৎপাদনের এমন একটি উপকরণ যা নিজে কোনো পণ্য নয়, কিন্তু পণ্য উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয়ে উৎপাদনশীলতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আকার ও প্রকৃতি অনুযায়ী মূলধনের উৎস বিভিন্ন হতে পারে, যেমন, নিজস্ব সঞ্চয়, ব্যাংক ঋণ, শেয়ার বাজারের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বা অংশীদারদের বিনিয়োগ।
ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনায় মূলধনকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়: কার্যকারী মূলধন (Working Capital) এবং স্থায়ী মূলধন (Fixed Capital)। কার্যকারী মূলধন ব্যবসার দৈনন্দিন খরচ মেটাতে, যেমন—কর্মচারীদের বেতন, কাঁচামাল ক্রয় এবং উপযোগিতা বা বিল পরিশোধে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, স্থায়ী মূলধন দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কাজ করে, যেমন, স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়, বড় ধরনের যন্ত্রপাতি স্থাপন বা প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো তৈরি। প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য এই দুই ধরনের মূলধনের মধ্যে একটি সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন।
মূলধনের সঠিক ব্যবহার এবং এর ওপর অর্জিত রিটার্ন (Return on Capital) বিশ্লেষণ করা যেকোনো উদ্যোক্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন কোনো বিনিয়োগের মাধ্যমে উপার্জিত মুনাফা মূলধনের চেয়ে বেশি হয়, তখনই সেই ব্যবসাকে অর্থনৈতিকভাবে সফল বলে গণ্য করা হয়। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কেবল পুঁজি থাকলেই হয় না, বরং সেই মূলধনকে কীভাবে দক্ষতার সাথে মানবসম্পদ, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং বাজার চাহিদার সাথে সমন্বয় করে বিনিয়োগ করা যায়, তা-ই ব্যবসার প্রকৃত সক্ষমতা নির্ধারণ করে। সামগ্রিকভাবে, মূলধন হলো যেকোনো ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক চালিকাশক্তি যা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি মজবুত করে এবং নতুন নতুন ব্যবসায়িক দিগন্ত উন্মোচনে সহায়তা করে।