তাহমিনা খান ডলি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসের এক অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং স্মরণীয় নাম। তিনি হলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নারী কূটনীতিক (First Female Diplomat)। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সংবেদনশীল ও চ্যালেঞ্জিং পেশায় প্রথম নারী হিসেবে তাঁর এই পদচারণা বাংলাদেশের নারী ক্ষমতায়নের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মাইলফলক স্থাপন করেছিল।
কূটনৈতিক পেশায় নারীদের পথপ্রদর্শক
কূটনীতি বা ফরেন সার্ভিস ঐতিহাসিকভাবেই বিশ্বজুড়ে এবং বাংলাদেশেও একটি পুরুষনিয়ন্ত্রিত পেশা হিসেবে বিবেচিত হতো। দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখা, পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ, দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক চুক্তি পরিচালনা এবং বৈদেশিক মিশনগুলোতে রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করার মতো গুরুদায়িত্বে নারীদের অংশগ্রহণ একসময় ছিল অভাবনীয়। কিন্তু তাহমিনা খান ডলি নিজ মেধা, প্রজ্ঞা ও অসামান্য যোগ্যতার মাধ্যমে এই প্রচলিত রক্ষণশীল ধারণাকে ভেঙে দেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (পররাষ্ট্র ক্যাডার) মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ মাধ্যমে প্রবেশ করে তিনি প্রমাণ করেন যে, বিশ্বমঞ্চে রাষ্ট্রের সফল প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে নারীরাও সমানভাবে দক্ষ ও যোগ্য।
উত্তরাধিকার ও প্রভাব
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গায় প্রথম নারী হিসেবে তাঁর এই অর্জনের পথ ধরেই পরবর্তীতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ক্যাডারে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি যে রুদ্ধদ্বার খুলে দিয়েছিলেন, তার ফলস্বরূপ বর্তমানে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে বহু নারী অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করছেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং কূটনীতির মতো রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অবস্থান সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে প্রথম পথপ্রদর্শক হিসেবে তাহমিনা খান ডলির নাম বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে চিরকাল অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হবে।