এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (Asian Development Bank – ADB) হলো একটি আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাংক, যা ১৯৬৬ সালে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অবস্থিত। এডিবি মূলত উন্নয়নশীল সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ, অনুদান এবং কারিগরি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করে। এটি কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এই অঞ্চলের দেশগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে একটি প্রধান নীতিনির্ধারণী ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করে।

এডিসির প্রধান কার্যাবলি ও ভূমিকা:

  • অবকাঠামো উন্নয়ন: সড়ক, রেলপথ, বন্দর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মতো বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে এডিবি বিশাল আকারের অর্থায়ন করে থাকে। বাংলাদেশের পদ্মা সেতুর মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্পে এডিবির সমর্থন রয়েছে।

  • মানবসম্পদ ও দক্ষতা উন্নয়ন: এডিবি কেবল ভৌত অবকাঠামোতেই বিনিয়োগ করে না, বরং শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন (TVET) এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে মানবসম্পদ তৈরির ওপরও ব্যাপক গুরুত্ব দেয়। তাদের লক্ষ্য হলো—একটি দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি করা, যা আধুনিক শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে।

  • আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সংহতি: এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এডিবি বিভিন্ন বহুমুখী সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

  • জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষা: বর্তমান সময়ে এডিবির বিনিয়োগের একটি বড় অংশ বরাদ্দ থাকে পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন প্রজেক্ট’ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায়। এটি টেকসই উন্নয়নের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় এডিবির অবদান: স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ এডিবির অন্যতম প্রধান অংশীদার। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, শহরভিত্তিক অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে মূল অর্থনীতির সাথে যুক্ত করা এবং ডিজিটাল রূপান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এডিবি সবসময় পাশে থেকেছে। কক্সবাজারের মতো অঞ্চলে শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নের যেসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তাতে এডিবির কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কেন এডিবি গুরুত্বপূর্ণ: এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এডিবির ভূমিকা অপরিসীম। এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে কেবল অর্থায়নই করে না, বরং বিশ্বমানের গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী পরামর্শ প্রদান করে, যা দেশের প্রশাসনিক দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এডিবি তার প্রতিটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং পরিবেশগত সুরক্ষার ওপর কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখে।