কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO2) হলো একটি বর্ণহীন ও গন্ধহীন গ্যাস, যা পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যেমন অপরিহার্য, তেমনি বর্তমানে পরিবেশগত বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবেও পরিচিত। এটি একটি কার্বন পরমাণু এবং দুটি অক্সিজেন পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত একটি স্থিতিশীল রাসায়নিক যৌগ। প্রাকৃতিক পরিবেশে কার্বন চক্রের মাধ্যমে এই গ্যাসের ভারসাম্য বজায় থাকে, যেখানে উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় এটি গ্রহণ করে এবং প্রাণীকুল শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে এটি ত্যাগ করে।
তবে শিল্প বিপ্লবের পর থেকে জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস) পোড়ানো, বনভূমি উজাড় এবং বিভিন্ন শিল্প প্রক্রিয়ার কারণে বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই গ্যাসটি বায়ুমণ্ডলের একটি কার্যকর ‘গ্রিনহাউস গ্যাস’, যা সূর্য থেকে আগত তাপকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। স্বাভাবিক মাত্রায় এটি পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী উষ্ণতা প্রদান করে, কিন্তু অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে এটি বায়ুমণ্ডলের তাপ শোষণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming) এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।
কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিবেশগত প্রভাবগুলো বহুমুখী:
-
বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি: বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রেখে এটি মেরু অঞ্চলের বরফ গলাচ্ছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
-
সমুদ্রের অম্লতা বৃদ্ধি: সমুদ্রের পানি বায়ুমণ্ডল থেকে প্রচুর পরিমাণে $CO_2$ শোষণ করে, ফলে পানির পিএইচ (pH) মান কমে যায় এবং সামুদ্রিক প্রাণবৈচিত্র্য, বিশেষ করে কোরাল বা প্রবাল প্রাচীর হুমকির মুখে পড়ছে।
-
প্রতিকূল আবহাওয়া: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অনাবৃষ্টি এবং বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও পৌনঃপুনিকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বর্তমানে বিজ্ঞানীরা কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য কার্বন ক্যাপচার ও স্টোরেজ (CCS) প্রযুক্তি, বনায়ন কর্মসূচি এবং শক্তির উৎস হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।