অ-নবায়নযোগ্য শক্তি বা অনবায়নযোগ্য জ্বালানি বলতে এমন এক ধরনের শক্তির উৎসকে বোঝায়, যার মজুত পৃথিবীতে সীমিত এবং যা একবার নিঃশেষ হয়ে গেলে পুনরায় প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হতে লক্ষ লক্ষ বছর সময়ের প্রয়োজন হয়। মূলত ভূ-অভ্যন্তরে প্রাগৈতিহাসিক উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় এই শক্তির উৎসগুলো তৈরি হয়েছে, তাই এগুলোকে একত্রে জীবাশ্ম জ্বালানি বলা হয়। কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ইউরেনিয়াম হলো অ-নবায়নযোগ্য শক্তির প্রধান উদাহরণ। বর্তমান বিশ্ব সভ্যতার শিল্পায়ন, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বিশাল অংশ এই জ্বালানিগুলোর ওপর নির্ভরশীল।
এই শক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর দুষ্প্রাপ্যতা এবং ব্যাপক ব্যবহারিক প্রয়োগ। খনিজ তেল বা কয়লা উত্তোলন করে পোড়ানোর মাধ্যমে যে তাপশক্তি উৎপন্ন হয়, তা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বা ইঞ্জিন চালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে, অ-নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারের পেছনে কিছু গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। প্রথমত, এটি একটি ফুরিয়ে যাওয়া সম্পদ, অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদে এই জ্বালানির উৎসগুলো নিঃশেষ হয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত, এগুলো পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস, বিশেষ করে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বায়ু দূষণের মতো ভয়াবহ পরিবেশগত সমস্যার সৃষ্টি করছে।
বর্তমানে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিশ্বব্যাপী অ-নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি বা জলবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই রূপান্তর এখন সময়ের দাবি। যদিও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির খাতিরে এখনো অ-নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার অপরিহার্য, তবুও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এর ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাস করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।