শ্রীকর নন্দী

শ্রীকর নন্দী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন প্রখ্যাত কবি, যিনি সুলতানি আমলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের শাসক লস্কর পরাগল-খানের পুত্র ছুটিখানের (নসরৎ খান) পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁর অমর সাহিত্যকর্ম রচনা করেছিলেন। মধ্যযুগের সাহিত্যিক ইতিহাসে তিনি মূলত মহাভারতের অশ্বমেধ পর্বের অনুবাদক হিসেবে পরিচিত।

ছুটিখানের আদেশে ও অনুপ্রেরণায় তিনি মহাভারতের অশ্বমেধ পর্ব বাংলায় অনুবাদ করেন, যা বাংলা সাহিত্যে ‘ছুটিখানী মহাভারত’ নামে সুপরিচিত। এই কাব্যগ্রন্থটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের এক মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর এই অনুবাদের ভাষা এবং বর্ণনাশৈলী সেই সময়ের সাধারণ মানুষের কাছে মহাভারতের কাহিনীকে অত্যন্ত সহজবোধ্য ও হৃদয়গ্রাহী করে তুলেছিল।

আরো পড়ুন:  দৈনিক আজাদ

কবি শ্রীকর নন্দীর রচনাশৈলীতে তৎকালীন লৌকিক ও শাস্ত্রীয় ভাষার এক সুন্দর মিশ্রণ দেখা যায়। তিনি কেবল আক্ষরিক অনুবাদই করেননি, বরং নিজস্ব কাব্যপ্রতিভার মাধ্যমে কাহিনীতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন, যা বাংলা সাহিত্যের ধারায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ছুটিখানের রাজসভা ছিল বিদ্যাচর্চার কেন্দ্রস্থল, আর সেই পরিবেশের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছিলেন শ্রীকর নন্দী।

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে, শ্রীকর নন্দীর কর্ম কেবল সাহিত্যিক সৃষ্টি ছিল না, বরং তা সুলতানি আমলে আঞ্চলিক শাসকদের সংস্কৃতিপ্রেমের এক অনন্য দলিল। ছুটিখানের মতো প্রভাবশালী সেনাপতিরা যে বাংলা ভাষাকে রাজকীয় মর্যাদা দিয়ে উৎসাহিত করতেন, শ্রীকর নন্দীর রচনা তারই সাক্ষ্য বহন করে।

আরো পড়ুন:  পার্থ বড়ুয়া

সংক্ষেপে, শ্রীকর নন্দী ছিলেন সেই সময়ের একজন অসাধারণ কবি, যিনি তাঁর কাব্যপ্রতিভা দিয়ে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। তাঁর রচিত ‘ছুটিখানী মহাভারত’ আজও বাঙালি সমাজে তাঁর স্মৃতিকে অম্লান করে রেখেছে এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।