ক্ষতিকর ঔষধ আইন, ১৯৫১

ক্ষতিকর ঔষধ আইন, ১৯৫১ হলো এমন সব ঔষধের তৈরি, বিক্রয়, ব্যবসা, পরিবেশন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রক আইন, যা বারবার ব্যবহারে অভ্যাসে পরিণত হয় এবং অবাঞ্ছিত ও বিপজ্জনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

ঐতিহাসিক পটভূমি

  • উৎস: ১৯৩০ সালে ভারতীয় আইনসভা প্রথম ‘ক্ষতিকর ঔষধ আইন, ১৯৩০’ গ্রহণ করে।

  • গ্রহণ ও প্রয়োগ: ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তান সরকার ১৯৫১ সালে এটিকে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ ‘ক্ষতিকর ঔষধ আইন, ১৯৫১’ হিসেবে গ্রহণ করে। বর্তমানে বাংলাদেশেও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতি রেখে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ এই আইনটি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

আইনের মূল লক্ষ্য

কোকেন, আফিম, গাঁজা এবং এসবের রাসায়নিক উপাদান থেকে তৈরি সামগ্রী এই আইনের আওতাভুক্ত। চিকিৎসাক্ষেত্রে এগুলো মূলত বেদনানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, এগুলোর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার চরম ক্ষতিকর। এসব ঔষধের কিছু বিপজ্জনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, যেমন, সুখোচ্ছ্বাস, মেজাজের পরিবর্তন, মানসিক আচ্ছন্নতা, শ্বাসকার্যের শ্লথতা, রক্তচাপ হ্রাস এবং স্নায়ুতন্ত্রের বৈকল্য। নেশাকর হওয়ায় কেবল নির্ভেজাল চিকিৎসা ছাড়া এগুলোর ব্যবহার কঠোরভাবে সীমিত করার জন্যই এই আইন প্রয়োগ করা হয়।

নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম

এই আইনের আওতায় বেশ কিছু কার্যক্রম সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে:

  • কোকা গাছ, গাঁজা ও আফিম পপির চাষ, সংগ্রহ, মজুত, আমদানি ও রপ্তানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

  • আফিম উৎপাদনসহ ক্ষতিকর ঔষধ তৈরি এবং আমদানি রপ্তানি কেবল সরকার কর্তৃক অনুমোদিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষই করতে পারবে।

ক্ষতিকর ঔষধের সংজ্ঞা

আইন অনুযায়ী নিচের দ্রব্যগুলোকে ক্ষতিকর ঔষধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে:

  • কোকা পাতা: Erythroxylon গণের কোনো প্রজাতির পাতা ও কচি কুঁড়ি, যাতে ০.১০% এর বেশি কোকেন থাকে।

  • আফিম: Papaver somniferum প্রজাতির বীজকোষ থেকে নিষ্কাশিত কষ বা গুঁড়ো, যাতে ০.২০% এর বেশি মরফিন থাকে।

  • গাঁজা: Cannabis sativa প্রজাতির স্ত্রী উদ্ভিদের পাতা, বোঁটা, মঞ্জরি বা কচি ফলগুচ্ছ এবং এগুলো থেকে প্রস্তুতকৃত গাঁজা, সিদ্ধি, ভাং, চরস, হাশিশ বা যেকোনো পানীয়।

  • তৈরি ঔষধ: যেসব ঔষধে কোকা জাত দ্রব্য, ভেষজ গাঁজা এবং বিভিন্ন রকমের আফিমজাত সামগ্রী থাকে।

শাস্তির বিধান

ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য নিয়ে অননুমোদিত কাজকর্ম, যেমন তৈরি, বিক্রয় বা মজুত করা গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ।

  • প্রথমবার অপরাধের জন্য: দুই বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

  • পরবর্তী অপরাধের জন্য: ৪ বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

অপরাধের ধরন অনুসারে শাস্তির মাত্রা নির্ধারিত বিধি মোতাবেক পরিবর্তিত হতে পারে। এই আইনের অধীনে আইনভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে গ্রহণীয় যাবতীয় বৈধ ব্যবস্থাদি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত আছে।