বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতি

বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতি (Zoological Society of Bangladesh) দেশের প্রাণিবিজ্ঞানীদের একটি অরাজনৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক সংগঠন, যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরপরই দেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী ৫৩ জন প্রাণিবিজ্ঞানী এই সমিতি গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সম্মেলন আয়োজন করেন। প্রায় দুই মাসের মধ্যে এর একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয় এবং ১৯৭২ সালের ১৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতি বা জুওলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (জেডএসবি) এর যাত্রা শুরু হয়।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

এই সমিতির প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রাণিবিজ্ঞানের বিশুদ্ধ ও ফলিত সকল শাখার প্রসার ঘটানো এবং এই সমিতির সাথে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে অবস্থিত।

পরিচালনা পর্ষদ ও সদস্যপদ

একজন সভাপতি, ৩ জন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, ৩ জন আঞ্চলিক সম্পাদক এবং একজন কোষাধ্যক্ষসহ মোট ২৪ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি নির্বাচিত পরিষদ এই সমিতির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রাণীবিজ্ঞানে আগ্রহী যেকোনো দেশের বিজ্ঞানের স্নাতক ডিগ্রিধারী ব্যক্তি এই সমিতির সদস্যপদের জন্য আবেদন করতে পারেন। বর্তমানে এর মোট সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮৪৫ জন, যার মধ্যে ৬৫ জন আজীবন সদস্য, ৭৮ জন ফেলো এবং ২ জন সম্মানসূচক ফেলো রয়েছেন।

প্রকাশনা ও কার্যক্রম

সমিতি নিয়মিতভাবে ‘বাংলাদেশ জার্নাল অব জুওলজি’ (Bangladesh Journal of Zoology) নামক একটি ষাণ্মাসিক গবেষণা পত্রিকা এবং ‘শঙ্খচিল’ নামক একটি জনপ্রিয় বাংলা বুলেটিন প্রকাশ করে। জার্নালটির জন্য একটি সম্পাদনা পর্ষদ রয়েছে, যেখানে একজন প্রধান সম্পাদক এবং ৫ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। সূচনালগ্ন থেকেই সমিতি নিয়মিতভাবে বার্ষিক সভা এবং দ্বিবার্ষিক সম্মেলন আয়োজন করে আসছে। এছাড়া জাতীয় সম্মেলনের পর তারা এর কার্যবিবরণী বা প্রসিডিংস প্রকাশ করে।

সম্প্রতি এ. কে. আতাউর রহমান রচিত ‘ফ্রেশওয়াটার ফিশেস অব বাংলাদেশ’ (Freshwater Fishes of Bangladesh) নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বই এই সমিতি থেকে প্রকাশিত হয়েছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিম্পোজিয়াম এবং সেমিনার আয়োজনের নিজস্ব ঐতিহ্যও তারা নিয়মিতভাবে বজায় রেখেছে।

অর্থায়ন

বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সমিতির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বার্ষিক অনুদান প্রদান করে থাকে। পাশাপাশি, সাংগঠনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে জেডএসবি তার নিজস্ব সদস্যদের অনুদানের মাধ্যমে একটি ট্রাস্ট ফান্ড বা তহবিল গঠন করেছে।