মিথেন (CH4) হলো একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অত্যন্ত দাহ্য গ্যাস, যা মূলত সরলতম হাইড্রোকার্বন হিসেবে পরিচিত। এর অণুতে একটি কার্বন পরমাণু চারটি হাইড্রোজেন পরমাণুর সাথে যুক্ত থাকে। যদিও এটি প্রাকৃতিকভাবে পরিবেশে বিভিন্ন উপায়ে উৎপন্ন হয়, তবুও বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে এর উপস্থিতি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। কার্বন-ডাই-অক্সাইডের তুলনায় মিথেন বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখার ক্ষেত্রে প্রায় ২৫ থেকে ২৮ গুণ বেশি শক্তিশালী।
মিথেন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান উৎসগুলো হলো:
-
কৃষিকাজ ও গবাদি পশু: ধানক্ষেতের পচনশীল জৈব পদার্থ এবং গবাদি পশুর (বিশেষ করে গরু, মহিষ) পরিপাকতন্ত্রে গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর মিথেন নির্গত হয়।
-
জলাভূমি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: জলাভূমি, ল্যান্ডফিল বা আবর্জনার স্তূপ এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার বর্জ্য পচনের সময় অবাত পরিবেশে (অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে) মিথেন তৈরি হয়।
-
জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলন: কয়লা খনি এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রচুর মিথেন বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবেশের ওপর মিথেনের প্রভাব অত্যন্ত উদ্বেগের। বায়ুমণ্ডলে এটি দীর্ঘস্থায়ী না হলেও স্বল্পমেয়াদে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে এটি মারাত্মক ভূমিকা রাখে। তবে একটি ইতিবাচক দিক হলো, মিথেন বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মতো শত শত বছর টিকে থাকে না। তাই মিথেন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গতি ধীর করা সম্ভব। বর্তমানে অনেক দেশে ল্যান্ডফিলের গ্যাস সংগ্রহ করে তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।