কয়লা

কয়লা (Coal) হলো পাললিক শিলাজাত এক ধরনের দাহ্য পদার্থ, যা প্রধানত কার্বন এবং অন্যান্য উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর উপরিভাগে থাকা প্রকাণ্ড সব বনাঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাটির নিচে চাপা পড়ে। এরপর লক্ষ লক্ষ বছর ধরে প্রচণ্ড ভূ-গর্ভস্থ চাপ ও উচ্চ তাপের প্রভাবে সেই উদ্ভিদজাত উপাদানগুলো রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কয়লায় রূপান্তরিত হয়েছে, যাকে ভূতাত্ত্বিক পরিভাষায় ‘কার্বোনিফিকেশন’ প্রক্রিয়া বলা হয়। শক্তির প্রাথমিক উৎস হিসেবে শিল্প বিপ্লবের সময় থেকেই কয়লা বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

কার্বনের পরিমাণের ভিত্তিতে কয়লাকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়:

১. অ্যানথ্রাসাইট: এটি সর্বোচ্চ মানের কয়লা, যাতে কার্বনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি এবং এটি খুব ধীরগতিতে ও স্বচ্ছ শিখায় জ্বলে।

২. বিটুমিনাস: শিল্পকারখানায় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

৩. লিগনাইট: এটি ‘বাদামি কয়লা’ নামে পরিচিত, যাতে আর্দ্রতা বেশি থাকে এবং তাপ উৎপাদন ক্ষমতা তুলনামূলক কম।

৪. পিট: এটি কয়লা তৈরির প্রাথমিক পর্যায়, যা জ্বালানি হিসেবে খুব একটা কার্যকর নয়।

বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিশ্বের একটি বিশাল অংশ এখনো কয়লার ওপর নির্ভরশীল। তবে পরিবেশগত দিক থেকে কয়লা পোড়ানো অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি পোড়ালে প্রচুর পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ($CO_2$), সালফার ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং পারদ বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়, যা অ্যাসিড বৃষ্টি এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। এছাড়া কয়লা খনি থেকে উত্তোলনের ফলে ভূমিধস এবং জলদূষণের মতো পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকিও থাকে।

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবং পরিবেশের ওপর কয়লার নেতিবাচক প্রভাব প্রশমিত করতে আধুনিক প্রযুক্তিতে ‘ক্লিন কোল টেকনোলজি’ বা কয়লা শোধনের বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা ও কাজ চলছে। তবুও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক শক্তি নীতি এখন কয়লার ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ধাবিত হচ্ছে।