ছুটিখান (যিনি নসরৎ খান নামেও পরিচিত) ছিলেন মধ্যযুগীয় বাংলার সুলতানি আমলের একজন প্রভাবশালী সেনাপতি এবং লস্কর পরাগল-খানের পুত্র। তিনি পিতার মতোই বাংলার সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এবং পরবর্তীতে নসরৎ শাহের শাসনামলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা: পরাগল-খানের উত্তরসূরি হিসেবে ছুটিখান বাংলা সাহিত্যের বিকাশে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। পিতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনিও কবিদের অকৃপণভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। তাঁর আদেশে ও উৎসাহে কবি শ্রীকর নন্দী মহাভারতের অশ্বমেধ পর্বের অনুবাদ করেছিলেন, যা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘ছুটিখানী মহাভারত’ নামে বিখ্যাত। এই কাব্যগ্রন্থটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের এক মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান: ছুটিখান হোসেন শাহী বংশের একজন বিশ্বস্ত রাজকর্মচারী ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। সুলতানি আমলের এই অঞ্চলে সামরিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: ছুটিখানের নাম মধ্যযুগের ইতিহাসে মূলত বাংলা ভাষার একজন মহান পৃষ্ঠপোষক হিসেবেই বেশি পরিচিত। সুলতানি আমলে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যে পরিবারের সদস্যরা বাংলা ভাষার চর্চাকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছুটিখান পরিবার অন্যতম।
সংক্ষেপে, ছুটিখান ছিলেন একজন সংস্কৃতিমনা যোদ্ধা, যিনি বাংলার শাসনব্যবস্থার পাশাপাশি সাহিত্যের সমৃদ্ধিকেও সমান গুরুত্ব দিতেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত ‘ছুটিখানী মহাভারত’ আজও বাঙালি সমাজে তাঁর স্মৃতিকে অম্লান করে রেখেছে।