অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন (১৯৪৩, ২০২০) ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট আইনজীবী এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনন্য নারী ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর, ২০০৯ সালে সরকার গঠিত হলে তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একটি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্ব একজন নারীর হাতে অর্পণের এই ঘটনা ছিল বাংলাদেশের নারী ক্ষমতায়নের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মাইলফলক।
একজন নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগী রাজনীতিবিদ হিসেবে সাহারা খাতুন তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর (প্রেসিডিয়াম) সদস্য হিসেবে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১২ সালে তাঁকে সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন দক্ষ আইনজীবী ছিলেন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দলের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে এবং জরুরি অবস্থার সময় যখন বহু রাজনৈতিক নেতা কারাবন্দী ছিলেন, তখন তিনি রাজপথে ও আদালতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন।
আজীবন চিরকুমারী এই নেত্রী তাঁর সাদামাটা জীবনযাপন, সততা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার জন্য সর্বমহলে অত্যন্ত সমাদৃত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। ২০২০ সালের ৯ জুলাই থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন শুধু একজন সফল রাজনীতিক ও আইনি পেশাজীবীই ছিলেন না, বরং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ও চ্যালেঞ্জিং পর্যায়ে নারীদের সফল পদচারণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।