বিশ্বপতি চৌধুরী

বিশ্বপতি চৌধুরী ছিলেন বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের একজন বিশিষ্ট বাঙালি লেখক, অধ্যাপক এবং সম্পাদক। বাংলা সাহিত্যের মূলধারায় তিনি খুব বেশি আলোচিত বা পরিচিত নাম না হলেও, সাহিত্য গবেষণা, সম্পাদনা এবং মৌলিক রচনায় তাঁর একটি নিজস্ব ও সম্মানজনক অবস্থান ছিল।

সাহিত্যকর্ম ও উল্লেখযোগ্য অবদান

  • প্রাচীন সাহিত্যের সম্পাদনা: বিশ্বপতি চৌধুরীর সবচেয়ে বড় অ্যাকাডেমিক অবদানগুলোর মধ্যে একটি হলো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘বৈষ্ণব পদাবলী’ (চয়ন) গ্রন্থটির সম্পাদনা। ড. সুকুমার সেন, খগেন্দ্রনাথ মিত্র এবং শ্যামাপদ চক্রবর্তীর মতো প্রখ্যাত পণ্ডিতদের সাথে তিনি যৌথভাবে এটি সম্পাদনা করেন, যা আজও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য গ্রন্থ।

  • মৌলিক রচনা: ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত প্রকাশনী গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় অ্যান্ড সন্স থেকে তাঁর লেখা ‘বৃন্তচ্যুত’ নামক একটি বই প্রকাশিত হয়।

  • ভৌতিক গল্প: রহস্য বা ভৌতিক গল্প লেখাতেও তাঁর দারুণ হাত ছিল। তাঁর লেখা ‘বদন রায়ের অয়েল পেন্টিং’ গল্পটি বেশ জনপ্রিয় এবং এটি রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘নির্বাচিত ভূতের গল্প’-সহ বাংলা সাহিত্যের বেশ কিছু বিখ্যাত ভৌতিক গল্পের সংকলনে স্থান পেয়েছে।

  • পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের প্রতি পৃষ্ঠপোষকতা: পেশায় অধ্যাপক বিশ্বপতি চৌধুরী তরুণ লেখকদের দারুণভাবে উৎসাহিত করতেন। পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীন তাঁর অমর সৃষ্টি ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ বইয়ের প্রকাশনার ক্ষেত্রে বিশ্বপতি চৌধুরীর অসামান্য সাহায্যের কথা অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সাথে উল্লেখ করেছিলেন। জসীমউদ্‌দীন তাঁর বইয়ের ভূমিকায় লিখেছিলেন, “এই পুস্তক প্রকাশে অধ্যাপক বিশ্বপতি চৌধুরী মহাশয় আমাকে নানাভাবে সাহায্য করিয়াছেন।”