বাংলাদেশ সরকার (Government of Bangladesh) হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নির্বাহী কর্তৃপক্ষ, যা দেশের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। সংসদীয় গণতন্ত্রের আদলে গঠিত এই সরকারের মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। সংবিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার তিনটি প্রধান অঙ্গের সমন্বয়ে গঠিত: আইন বিভাগ (জাতীয় সংসদ), নির্বাহী বিভাগ (প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা) এবং বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্টসহ অন্যান্য আদালত)। এগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ও পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সরকারি সংস্থা রয়েছে, যা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও বৈদেশিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে। সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে জাতীয় পরিকল্পনা, যা দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দিকনির্দেশনা প্রদান করে। উদাহরণস্বরূপ, শিক্ষা খাতে মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি সহায়তা ও নীতিমালার ভূমিকা অনস্বীকার্য। অগ্রণী স্কুল ও কলেজের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ড. কাজী আনোয়ারা মনসুর বা অধ্যক্ষ রোকেয়া মান্নানের মতো শিক্ষাবিদদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে ‘বেগম রোকেয়া পদক’ প্রদান করা সরকারের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নারী ক্ষমতায়নের প্রতি অঙ্গীকারেরই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এছাড়া, সরকারের বিভিন্ন বিশেষায়িত সংস্থা, যেমন—বাংলাদেশ ব্যাংক, দেশের মুদ্রানীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করে। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসমূহ সরকারি নীতি অনুযায়ী দেশের শিল্পায়ন, কৃষি উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নে প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী শক্তির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা সরকারি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সহায়ক হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ শাসনকার্যই পরিচালনা করে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের স্বার্থ রক্ষা করে। জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংস্থা, বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং আইএলও-র মতো উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সরকার দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে, বিশেষ করে Cox’s Bazar-এর মতো বিশেষ অঞ্চলের দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ সরকার একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে যেখানে আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করাই সরকারের মূল দর্শন। এই যাত্রায় সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং কার্যক্রমের উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।