বেগম রোকেয়া পদক হলো বাংলাদেশের নারীদের অসামান্য অবদান ও অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। নারী জাগরণের অগ্রদূত, লেখিকা ও সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর ‘বেগম রোকেয়া দিবস’-এ এই পদক প্রদান করা হয়। ১৯৩২ সালে জন্মগ্রহণকারী এবং ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণকারী এই মহীয়সী নারীর আদর্শকে ধারণ করে, যারা সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা বিস্তার, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন, তাদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত ব্যক্তিদের এই পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
এই পদকটি মূলত নারী শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি। ড. কাজী আনোয়ারা মনসুর এবং অধ্যক্ষ রোকেয়া মান্নানের মতো শিক্ষাবিদরা, যারা তাঁদের সারাজীবন নারী শিক্ষায় ব্যয় করেছেন, তাঁরা এই পদক প্রাপ্তির মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, সমাজ পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার হলো শিক্ষা। পদক প্রাপ্তির তালিকায় এমন ব্যক্তিত্বদের রাখা হয় যারা তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নারীদের জীবনের মানোন্নয়নে কাজ করেছেন এবং অদম্য সাহস ও মেধার মাধ্যমে প্রতিকূলতা জয় করেছেন।
বেগম রোকেয়া পদক প্রদানের উদ্দেশ্য কেবল ব্যক্তিকে সম্মানিত করা নয়, বরং তাঁর কর্মকে অনুসরণ করে নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করা। এটি নারীদের মেধা ও কাজের মূল্যায়ন করে সমাজে লিঙ্গ সমতা অর্জনের বার্তাকে শক্তিশালী করে তোলে। পদকপ্রাপ্তদের জন্য এটি যেমন একটি রাষ্ট্রীয় সম্মান, তেমনি সমগ্র নারী জাতির জন্য এটি প্রেরণার একটি উৎস। বর্তমানে সরকার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই পদক প্রদান করে থাকে, যাতে সমাজসেবা থেকে শুরু করে সাহিত্য ও অর্থনীতিতে নারীদের অবদান সঠিকভাবে মূল্যায়িত হয়।
পরিশেষে, বেগম রোকেয়া পদক কেবল একটি মেডেল বা সম্মাননা নয়, এটি নারী মুক্তি আন্দোলনের প্রতীক। যে আলো বেগম রোকেয়া জ্বালিয়েছিলেন, সেই আলোর পথ ধরে আজও বাংলাদেশের নারীরা এগিয়ে চলেছেন। পদকটি প্রাপ্তির মাধ্যমে একজন জয়ী ব্যক্তি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যই অর্জন করেন না, বরং তিনি একটি পুরো সমাজের সামনে এমন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন যা আগামী দিনের নারীদের জন্য পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। ড. কাজী আনোয়ারা মনসুরের মতো ব্যক্তিত্বদের এই পদক প্রাপ্তি আজিমপুরের অগ্রণী স্কুল ও কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য এক বিশাল গৌরবের বিষয় এবং এটি অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ব্যক্তিদেরও সমাজ সেবায় অনুপ্রাণিত করে।