তেল (Oil) বলতে সাধারণত জলীয় অবস্থার চেয়ে কম ঘনত্বের এবং পানিতে অদ্রবণীয় এক ধরনের পিচ্ছিলকারক ও দাহ্য পদার্থকে বোঝায়। ব্যবহারের ক্ষেত্র অনুযায়ী তেলকে প্রধানত কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়: খনিজ তেল (জীবাশ্ম জ্বালানি), ভোজ্য তেল এবং লুব্রিকেন্ট বা শিল্পে ব্যবহৃত তেল।
১. খনিজ তেল (Mineral Oil / Petroleum)
এটি মাটির নিচে পাললিক শিলাস্তরে জমা থাকা এক ধরণের জীবাশ্ম জ্বালানি। কোটি কোটি বছর আগে সমুদ্রে থাকা ক্ষুদ্র সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ প্রচণ্ড তাপ ও চাপে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল-এ রূপান্তরিত হয়েছে।
-
ব্যবহার: রিফাইনারি বা শোধনাগারে পরিশোধনের মাধ্যমে এটি থেকে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন, কেরোসিন এবং জেট ফুয়েল তৈরি হয়।
-
গুরুত্ব: এটি আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানার প্রধান চালিকাশক্তি।
২. ভোজ্য তেল (Edible Oil)
উদ্ভিদ বা প্রাণিজ উৎস থেকে আহরণ করা এই তেল আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। উদ্ভিজ্জ তেলের উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে সরিষা, সয়াবিন, সূর্যমুখী, পাম, নারকেল এবং জলপাই।
-
ব্যবহার: রান্নার মূল উপাদান হিসেবে এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
-
পুষ্টি: এগুলোতে ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন থাকে যা শরীরের শক্তি জোগাতে এবং কোষ গঠনে সহায়তা করে।
৩. শিল্পে ব্যবহৃত তেল ও লুব্রিকেন্ট (Industrial & Lubricating Oil)
এগুলো বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ঘর্ষণ কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
-
ব্যবহার: ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব বাড়াতে এবং যন্ত্রাংশের ক্ষয় রোধে লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন রাসায়নিক শিল্পে কাঁচামাল হিসেবেও নির্দিষ্ট ধরনের তেলের ব্যবহার রয়েছে।