টিক্কা খান

টিক্কা খান ছিলেন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর একজন শীর্ষস্থানীয় জেনারেল এবং সামরিক জান্তার অন্যতম সদস্য, যিনি ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে চালানো নির্মম গণহত্যার প্রধান নির্দেশক ছিলেন। এই পৈশাচিক নিষ্ঠুরতার জন্য সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনায় তাকে “বমর অব বেলুচিস্তান” এবং “বুচর অব বেঙ্গল” বা ‘বাংলার কসাই’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। লেখক তার এই চরম বর্বরতাকে হিটলারের কুখ্যাত সহচর হিমলারের সাথে তুলনা করে তাকে ‘ভেজাল হিমলার’ বলে উল্লেখ করেছেন।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়েহিয়া খান গোপনে ঢাকা ত্যাগের পূর্বে তার এই ‘কসাই’ টিক্কা খানকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বাঙালিদের ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ বা “সর্ট দেম আউট” (বাছাই করে খতম করো) অভিযান চালানোর জন্য। এই নির্দেশের পরই তিনি পূর্ব বাংলায় এক অবর্ণনীয় ও পৈশাচিক তাণ্ডব শুরু করেন। তার স্পষ্ট নির্দেশেই ২৬শে মার্চ ভোরে স্বাধীনতাকামী নেতা ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মুয়াজ্জেম হোসেনকে তার স্ত্রীর সামনে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ যখন চরমে, তখন এই টিক্কা খান ফরমান জারি করে স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আতাউল গনী ওসমানীকে ঢাকায় তার সামনে উপস্থিত হওয়ার হুকুম দিয়েছিলেন। এর উত্তরে জেনারেল ওসমানী অত্যন্ত ভদ্র ভাষায় তাকে প্রশ্ন করেছিলেন যে, তিনি যখন ঢাকায় আসবেন তখন টিক্কা খান স্বয়ং সেখানে থাকবেন কি না। বস্তুত, এক কথার মানুষ জেনারেল ওসমানী সত্যিই যখন ঢাকায় আসেন, তখন এই পরাক্রমশালী টিক্কা খান ঢাকায় ছিলেন না, বরং তিনি পালিয়ে রাওয়ালপিন্ডি চলে গিয়েছিলেন।