লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মুয়াজ্জেম হুসেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের একজন অকুতোভয় দেশপ্রেমিক এবং একনিষ্ঠ জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিত্ব। তিনি স্বায়ত্তশাসনের ‘ছয় দফা’ দাবির পরিবর্তে সরাসরি ‘এক দফা’ বা পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন। পশ্চিম পাকিস্তানিদের মানসিকতা ও আচরণের বিষয়ে তিনি গভীরভাবে অবগত ছিলেন এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, তাদের সাথে বাঙালিদের মানসিক বা স্বার্থগত কোনো ঐক্য কখনোই সম্ভব নয়। তাই তিনি কালক্ষেপণ না করে পূর্ব বাংলার জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট ডাক দিয়েছিলেন।
তার এই আপসহীন জাতীয়তাবাদী অবস্থানের কথা তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান এবং ইয়াহিয়া খান উভয়েরই খুব ভালোভাবে জানা ছিল। এর ফলে আইয়ুব খানের নির্দেশে এবং ইয়াহিয়া খানের প্রস্তুতকৃত নথিপত্রের ভিত্তিতে দায়ের করা তৎকালীন পাকিস্তানের কুখ্যাত ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’য় তাকে অন্যতম প্রধান আসামি করা হয়েছিল।
পাকিস্তানি সামরিক জান্তা, বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তানে হত্যাযজ্ঞের মূল হোতা টিক্কা খান তার এই স্বাধীনতাকামী ভূমিকার কথা কখনোই ভোলেনি। এর চরম পরিণতি হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ ভোরে পাকিস্তানি ঘাতকেরা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মুয়াজ্জেম হুসেনকে তার স্ত্রীর চোখের সামনে অত্যন্ত নৃশংস ও পাশবিকভাবে হত্যা করে। সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনায় এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনার বরাত দিয়ে এই মর্মান্তিক ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।