১৭৫৬ সালের এপ্রিলে সুবাহ বাংলার মসনদে নবাব সিরাজউদ্দৌলার অধিষ্ঠানকালে উইলিয়ম ওয়াট্স ছিলেন ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাসিমবাজার কুঠির প্রধান। দীর্ঘকাল বাংলায় বসবাস করার সুবাদে তিনি বাংলা, হিন্দি ও ফারসি ভাষায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। স্থানীয় বেনিয়াগোষ্ঠী এবং দেশের অপরাপর মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ফলে এ দেশের রীতিনীতি, অভ্যাস এবং আচার, আচরণ সম্পর্কে তিনি গভীর জ্ঞান লাভ করতে সমর্থ হন।
ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তিনি তৎকালীন নামকরা ও সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ীদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসেন। জগৎ শেঠ পরিবারের প্রধান, খাজা ওয়াজিদ এবং উমিচাঁদ ছিলেন তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত বন্ধু। তাঁর এই অগাধ স্থানীয় জ্ঞান এবং মুর্শিদাবাদের সঙ্গে কাসিমবাজারের ভৌগোলিক নৈকট্যের বিষয়টি বিবেচনা করে, রবার্ট ক্লাইভ তাঁকে মুর্শিদাবাদে নবাবের দরবারে ইংরেজ কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করেন।
পরবর্তীতে ক্লাইভ নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে চূড়ান্তভাবে উৎখাত করে নিজেদের পছন্দমতো একজনকে মসনদে বসানোর নীলনকশা প্রণয়নের দায়িত্ব উইলিয়ম ওয়াট্সের ওপর ন্যস্ত করেন। নির্দেশ পেয়ে ওয়াট্স মীরজাফর, রায় দুর্লভ ও ইয়ার লতিফ খানসহ মুর্শিদাবাদ দরবারের বিরোধী ভাবাপন্ন আমীরদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করেন। সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে বিরাট ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার এবং পরিণামে তাঁকে সম্পূর্ণভাবে উৎখাত করার ক্ষেত্রে উইলিয়ম ওয়াট্স সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
কোম্পানির স্বার্থে তাঁর এই যুগান্তকারী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৭৫৮ সালের ২২শে জুন রজার ড্রেকের স্থলে তাঁকে ফোর্ট উইলিয়মের গভর্নর নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু নিয়োগপ্রাপ্তির মাত্র চার দিন পরেই রবার্ট ক্লাইভের অনুকূলে তাঁকে এই পদ ছেড়ে দিতে হয়েছিল।