জুনোসিস হলো এমন এক ধরনের রোগ, যা প্রাণী, বিশেষ করে মেরুদণ্ডী প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। তবে মানুষ এবং প্রাণী উভয়ই সমানভাবে এই রোগের প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ। এখন পর্যন্ত ২৫০টিরও বেশি অণুজীব জুনোটিক সংক্রমণের জন্য দায়ী বলে জানা গেছে, যার মধ্যে ৩০ থেকে ৪০টি রোগ পোষা প্রাণী থেকে ছড়ায়। সরাসরি সংস্পর্শ, প্রাণীর কামড়, প্রাণীজ পণ্য বা উপজাত, প্রাণীর বর্জ্য, মলমূত্র ইত্যাদির মাধ্যমে এই রোগ সংক্রমিত হতে পারে।
রোগের বিস্তার ও কারণ বিভিন্ন কারণে জুনোটিক রোগগুলোর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়:
-
জনসংখ্যা বৃদ্ধি: মানুষ ও প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে জলাতঙ্ক (Rabies) ও লেপটোস্পাইরোসিস (Leptospirosis) রোগের বিস্তার ঘটে।
-
স্থানান্তর: মানুষ এবং প্রাণীর চলাচলের কারণে প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায়।
-
বাণিজ্য: প্রাণী, প্রাণীজ পণ্য এবং এর উপজাতগুলোর বাণিজ্যিক লেনদেনের কারণে ম্যাড কাউ ডিজিজ (Mad Cow Disease) ছড়িয়ে থাকে।
-
পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা: মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় অ্যানথ্রাক্স (Anthrax), রিকেটসিয়াল পক্স (Rickettsial Pox), সিটাকোসিস (Psittacosis), জাপানি এনকেফালাইটিস (Japanese Encephalitis), ইয়েলো ফিভার (Yellow Fever) ইত্যাদি রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের ডেইরি ফার্ম বা গরুর খামারগুলোর প্রায় ৩৫ শতাংশ গবাদিপশু বোভাইন টিউবারকিউলোসিস (Bovine Tuberculosis) বা গরুর যক্ষ্মায় আক্রান্ত। মহিষ, ছাগল, বিড়াল, শুকর, ইঁদুর জাতীয় প্রাণী এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ধনুষ্টংকার (Tetanus) এবং জলাতঙ্ক হলো দুটি অত্যন্ত সাধারণ জুনোটিক রোগ। তবে এই রোগগুলো প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।