কর্ণাটক

কর্ণাটক (Karnataka) ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি অন্যতম প্রধান, বৃহৎ এবং ঐতিহ্যবাহী রাজ্য। এর পূর্বে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা, পশ্চিমে আরব সাগর, উত্তরে মহারাষ্ট্র ও গোয়া এবং দক্ষিণে কেরালা ও তামিলনাড়ু অবস্থিত। রাজ্যটির রাজধানী ও বৃহত্তম শহর হলো বেঙ্গালুরু (Bengaluru), যা তথ্যপ্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব উন্নতির কারণে ভারতের ‘সিলিকন ভ্যালি’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। রাজ্যের প্রধান এবং সরকারি ভাষা হলো কন্নড় (Kannada)।

বাংলার ইতিহাসের সাথে সম্পর্ক (সেন রাজবংশ)

আমাদের পূর্ববর্তী আলোচনার সূত্র ধরে বলা যায়, প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের সাথে কর্ণাটকের একটি গভীর ও ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। একাদশ শতাব্দীতে বাংলায় যে পরাক্রমশালী সেন রাজবংশের উত্থান ঘটেছিল, তাঁদের আদি নিবাস ছিল দাক্ষিণাত্যের এই কর্ণাটক অঞ্চলেই। সেন রাজারা তাঁদের বিভিন্ন তাম্রশাসন ও শিলালিপিতে অত্যন্ত গর্বের সাথে নিজেদের ‘কর্ণাটক্ষত্রিয়’ বা ‘ব্রহ্মক্ষত্রিয়’ বলে পরিচয় দিয়েছেন। সেন বংশের আদি পুরুষ সামন্ত সেন তাঁর যৌবনে এই কর্ণাটকেই একজন দুর্ধর্ষ যোদ্ধা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে এখান থেকেই বাংলায় এসে রাঢ় অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিলেন।

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

কর্ণাটকের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময়। প্রাচীন ও মধ্যযুগে এই অঞ্চলে ভারতের কিছু সর্বশ্রেষ্ঠ ও পরাক্রমশালী সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটেছিল। এর মধ্যে কদম্ব, চালুক্য, রাষ্ট্রকূট, হোয়সল এবং হিন্দু সাম্রাজ্য বিজয়নগর অন্যতম। পরবর্তীতে মহীশূরের (Mysore) ওয়াদেয়ার রাজবংশ এবং ইংরেজ বিরোধী সংগ্রামে হায়দার আলী ও টিপু সুলতানের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাসও এই কর্ণাটকের মাটিতেই রচিত হয়েছিল। হাম্পি (Hampi), বাদামি এবং পাট্টাডাকালের মতো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো (UNESCO World Heritage Sites) কর্ণাটকের প্রাচীন স্থাপত্য ও ভাস্কর্য শিল্পের অসামান্য নিদর্শন বহন করে।

অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

বর্তমান ভারতের অর্থনীতিতে কর্ণাটকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যপ্রযুক্তি (IT), বায়োটেকনোলজি এবং মহাকাশ গবেষণায় (ISRO-এর সদর দপ্তর এখানে অবস্থিত) রাজ্যটি ভারতের শীর্ষস্থানীয়। কৃষিক্ষেত্রেও এর ব্যাপক অবদান রয়েছে; ভারতের সর্বাধিক কফি, রেশম (Silk) এবং চন্দন কাঠ কর্ণাটকেই উৎপাদিত হয়। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, অসংখ্য জলপ্রপাত এবং জাতীয় উদ্যানগুলোর (যেমন— বন্দীপুর ও নাগরহোল) কারণে এটি পর্যটকদের কাছেও একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য।