রাজা লক্ষ্মণ সেন (শাসনকাল: আনুমানিক ১১৭৮ – ১২০৬ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন প্রাচীন বাংলার সেন রাজবংশের চতুর্থ এবং স্বাধীন হিন্দু যুগের কার্যত শেষ উল্লেখযোগ্য ও পরাক্রমশালী সম্রাট। তিনি ছিলেন বাংলার ইতিহাসে এমন একজন শাসক, যাঁর রাজত্বকালে একদিকে যেমন শিল্প, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির এক অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটেছিল, অন্যদিকে তেমনি তাঁর শাসনামলের শেষ পর্যায়ে বাংলার বুকে বহিরাগত তুর্কি আক্রমণের ফলে সুদীর্ঘকালের হিন্দু ও বৌদ্ধ রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটেছিল [Majumdar, History of Bengal, Vol-I, 1943]। লক্ষ্মণ সেন তাঁর রাজধানী গৌড় (যাকে তাঁর নামানুসারে ‘লক্ষ্মণাবতী’ নামকরণ করা হয়েছিল) এবং নদীয়া বা নবদ্বীপ থেকে সমগ্র বঙ্গদেশ শাসন করতেন। তাঁর রাজত্বকাল প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক উত্থান-পতন এবং সাংস্কৃতিক রেনেসাঁর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা সমকালীন তাম্রশাসন, শিলালিপি এবং মুসলিম ঐতিহাসিকদের লেখনীর মাধ্যমে বাংলার ইতিহাসে ভাস্বর হয়ে আছে।
জন্ম, বংশপরিচয় ও সিংহাসন আরোহণ
লক্ষ্মণ সেন ছিলেন সেন বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক, সমাজ সংস্কারক ও পণ্ডিত রাজা বল্লাল সেনের সুযোগ্য পুত্র এবং সেন সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রসারক বিজয় সেনের পৌত্র। তাঁর মাতার নাম ছিল রমা দেবী, যিনি চালুক্য রাজবংশের কন্যা ছিলেন বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন। রাজা বল্লাল সেনের মৃত্যুর পর, আনুমানিক ১১৭৮ খ্রিস্টাব্দে (মতান্তরে ১১৭৯ খ্রিস্টাব্দে), লক্ষ্মণ সেন বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন। সিংহাসনে আরোহণের সময় তাঁর বয়স প্রায় ষাট বছর ছিল বলে মিনহাজ-উস-সিরাজ তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন [Minhaj-i-Siraj, Tabaqat-i-Nasiri]। তবে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ মনে করেন যে, সিংহাসন আরোহণের সময় তাঁর বয়স কিছুটা কম হলেও তিনি যথেষ্ট পরিণত বয়সেই রাজ্যের ভার গ্রহণ করেছিলেন। পিতা বল্লাল সেন জীবিত থাকাকালীনই লক্ষ্মণ সেন যুবরাজ হিসেবে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ করে নিজের শৌর্য-বীর্য ও রণকৌশলের অসামান্য প্রমাণ রেখেছিলেন।
সামরিক সাফল্য ও সাম্রাজ্য বিস্তার
লক্ষ্মণ সেন তাঁর রাজত্বের প্রথমার্ধে একজন অত্যন্ত সুদক্ষ, রণনিপুণ ও দুর্ধর্ষ সমরনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। পিতা বল্লাল সেন রাজ্য বিস্তারের চেয়ে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সমাজ সংস্কারে বেশি মনোযোগী ছিলেন, কিন্তু লক্ষ্মণ সেন তাঁর পিতামহ বিজয় সেনের সাম্রাজ্যবাদী নীতি অনুসরণ করে সেন সাম্রাজ্যের সীমানা সম্প্রসারণে ব্রতী হন। মাধাইনগর, ভাওয়াল এবং আনুলিয়া তাম্রশাসন থেকে জানা যায় যে, লক্ষ্মণ সেন কলিঙ্গ (বর্তমান ওড়িশা), কামরূপ (বর্তমান আসাম) এবং কাশী বা বারাণসী পর্যন্ত সফল সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিলেন [Sircar, Palas of Bengal and Senas, 1971]।
তিনি কলিঙ্গের পরাক্রমশালী গজপতি রাজাকে পরাজিত করেন এবং কামরূপের রাজাকে তাঁর বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল গাহড়বাল বংশীয় রাজা জয়চন্দ্রের বিরুদ্ধে তাঁর সফল অভিযান। গাহড়বাল রাজাদের পরাজিত করে তিনি প্রয়াগ (এলাহাবাদ), বারাণসী এবং পুরী পর্যন্ত তাঁর রাজ্যের সীমানা বা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন বলে সেন যুগের শিলালিপিতে দাবি করা হয়েছে। এই অসামান্য সামরিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘অরিরাজ-মর্দন-শঙ্কর’, ‘গৌড়েশ্বর’, ‘পরমভট্টারক’, ‘মহারাজাধিরাজ’ ইত্যাদি সুউচ্চ রাজকীয় উপাধি ধারণ করেছিলেন। তাঁর সামরিক শৌর্য কেবল রাজ্য বিস্তারেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং নৌ-যুদ্ধেও সেন বাহিনী তাঁর সময়ে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছিল।
সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির স্বর্ণযুগ
সামরিক দিক থেকে তাঁর রাজত্বকালের শেষ ভাগ কিছুটা ম্লান হলেও, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতার দিক থেকে লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বকাল প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে এক অবিসংবাদিত ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি নিজে একজন অত্যন্ত সুপণ্ডিত ব্যক্তি এবং সংস্কৃত ভাষার একনিষ্ঠ অনুরাগী ছিলেন। তাঁর পিতা বল্লাল সেন রচিত অসমাপ্ত গ্রন্থ ‘অদ্ভুতসাগর’ তিনি সমাপ্ত করেন।
লক্ষ্মণ সেনের রাজসভা ছিল তৎকালীন ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত, কবি ও সাহিত্যিকদের মিলনমেলা। তাঁর রাজসভায় অলংকৃত ছিলেন ‘পঞ্চরত্ন’ বা পাঁচজন শ্রেষ্ঠ কবি—জয়দেব, ধোয়ী, উমাপতিধর, গোবর্ধন আচার্য এবং শরণ। এঁদের মধ্যে কবি জয়দেব ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ, যাঁর রচিত অমর সংস্কৃত কাব্য ‘গীতগোবিন্দম’ (Gita Govinda) রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত এবং যা আজও সমগ্র ভারতজুড়ে বৈষ্ণব সমাজে পরম ভক্তির সাথে পঠিত হয় [Eaton, The Rise of Islam and the Bengal Frontier, 1993]। কবি ধোয়ী রচনা করেছিলেন ‘পবনদূত’ কাব্য, যা কালিদাসের ‘মেঘদূত’-এর অনুকরণে রচিত হলেও এর সাহিত্যমান অত্যন্ত উন্নত।
লক্ষ্মণ সেনের প্রধানমন্ত্রী এবং ধর্মাধ্যক্ষ ছিলেন প্রখ্যাত পণ্ডিত হলায়ুধ মিশ্র, যিনি হিন্দু আইন ও ধর্মশাস্ত্রের উপর ‘ব্রাহ্মণসর্বস্ব’ নামক একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। এছাড়া শ্রীধর দাস রচিত ‘সদুক্তিকর্ণামৃত’ নামক সংস্কৃত শ্লোক সংকলন গ্রন্থটিও লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বকালেই সংকলিত হয়েছিল, যেখানে তৎকালীন সমাজ, প্রকৃতি এবং সাহিত্যের এক অপূর্ব প্রতিফলন দেখা যায়। রাজা নিজে এই সমস্ত কবি ও পণ্ডিতদের অকাতরে অর্থ ও ভূমি দান করে তাঁদের সৃষ্টিশীল কাজে উৎসাহিত করতেন।
ধর্মীয় বিশ্বাস ও শাসনব্যবস্থা
সেন রাজবংশের আদি রাজারা (যেমন বিজয় সেন ও বল্লাল সেন) মূলত পরম শৈব (শিবের উপাসক) ছিলেন। কিন্তু লক্ষ্মণ সেন তাঁর পূর্বপুরুষদের ধর্মীয় ধারা থেকে কিছুটা সরে এসে বৈষ্ণব ধর্মের (বিষ্ণুর উপাসক) প্রতি প্রবল অনুরাগী হয়ে ওঠেন। তিনি ‘পরমবৈষ্ণব’ ও ‘পরমনরসিংহ’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর রাজত্বকালে বাংলায় বৈষ্ণব ধর্মের ব্যাপক প্রসার ঘটে, যার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় রাজসভার কবি জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দম’ কাব্যের জনপ্রিয়তার মধ্য দিয়ে [Majumdar, History of Bengal, Vol-I, 1943]।
প্রশাসনিক দিক থেকে লক্ষ্মণ সেন পূর্ববর্তী পাল এবং সেন রাজাদের প্রতিষ্ঠিত শাসনকাঠামোই বজায় রেখেছিলেন। রাজ্যকে ভুক্তি (প্রদেশ), মণ্ডল, বিষয় (জেলা), এবং গ্রাম—এই কয়েকটি স্তরে ভাগ করে সুশৃঙ্খল শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করা হতো। কৃষির উন্নতি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর প্রশাসন অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। ভূমিদান প্রথা তাঁর সময়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল, বিশেষ করে ব্রাহ্মণ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রচুর করমুক্ত নিষ্কর জমি (অগ্রহার) দান করা হতো।
বখতিয়ার খলজীর আক্রমণ ও নদীয়ার পতন
লক্ষ্মণ সেনের জীবনের সবচেয়ে ট্র্যাজিক এবং বাংলার ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনাটি ঘটে তাঁর রাজত্বকালের একেবারে শেষ পর্যায়ে। আনুমানিক ১২০৩ বা ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে, যখন লক্ষ্মণ সেন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে উপনীত, তখন তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজী বিহার জয় সম্পন্ন করে বাংলার দিকে অগ্রসর হন। সে সময় লক্ষ্মণ সেন তাঁর রাজধানী গৌড় ছেড়ে পবিত্র তীর্থস্থান নদীয়ায় (নবদ্বীপ) অবস্থান করছিলেন।
ঐতিহাসিক মিনহাজ-উস-সিরাজের ‘তবকাত-ই-নাসিরী’ গ্রন্থে এই আক্রমণের এক নাটকীয় বর্ণনা পাওয়া যায়। বখতিয়ার খলজী প্রচলিত রাজপথ পরিহার করে ঝাড়খণ্ডের দুর্গম অরণ্যের ভেতর দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়ে নদীয়ায় এসে উপস্থিত হন। তাঁর বাহিনীর মূল অংশ পিছিয়ে পড়ায় তিনি মাত্র ১৮ জন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে অশ্বব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে নদীয়ার নগরদ্বার অতিক্রম করেন এবং অতর্কিতে লক্ষ্মণ সেনের রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করেন [Minhaj-i-Siraj, Tabaqat-i-Nasiri]।
আকস্মিক এই আক্রমণে প্রাসাদের রক্ষীরা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিল। অশীতিপর বৃদ্ধ রাজা লক্ষ্মণ সেন সে সময় মধ্যাহ্নভোজনে বসেছিলেন। প্রাসাদের বাইরে হঠাৎ তুমুল কোলাহল এবং তুর্কিদের অতর্কিত আক্রমণের খবর পেয়ে তিনি চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েন। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে বুঝতে পেরে এবং বিনা প্রস্তুতিতে যুদ্ধ করা অসম্ভব বিবেচনা করে, রাজা লক্ষ্মণ সেন প্রাসাদের পেছনের দরজা দিয়ে নৌকায় করে সপরিবারে পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরের (বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলা) উদ্দেশ্যে পলায়ন করেন। বখতিয়ার খলজী নদীয়া অধিকার করেন এবং প্রচুর ধনসম্পদ লুণ্ঠন করে পরবর্তীতে গৌড় দখল করে সেখানে মুসলিম শাসনের রাজধানী স্থাপন করেন।
নদীয়ার এই পতন নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। অনেকেই মনে করেন যে, সেন বাহিনীর গোয়েন্দা চরম ব্যর্থতা এবং রাজার অত্যধিক বার্ধক্যজনিত দুর্বলতাই এই বিনা রক্তপাতে বিজয়ের মূল কারণ। ১৮ জন অশ্বারোহীর গল্পটি হয়তো মিনহাজের অতিরঞ্জন হতে পারে, তবে এটি নিশ্চিত যে বখতিয়ারের ক্ষিপ্রতা এবং গেরিলা কৌশল সেন প্রশাসনকে সম্পূর্ণ অচল করে দিয়েছিল।
পূর্ববঙ্গে শেষ জীবন ও সেন বংশের পতন
নদীয়া ও গৌড়ের পতনের অর্থ এই নয় যে সেন বংশের সম্পূর্ণ অবসান ঘটেছিল। বখতিয়ার খলজীর অধিকার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। নদীয়া থেকে পালিয়ে লক্ষ্মণ সেন পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে (বর্তমান মুন্সিগঞ্জ) আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং সেখানে তাঁর নতুন রাজধানী স্থাপন করেন। পূর্ব ও দক্ষিণবঙ্গে তুর্কিরা তখনো প্রবেশ করতে পারেনি।
বিক্রমপুর থেকে লক্ষ্মণ সেন আরও প্রায় দুই থেকে তিন বছর স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেন। আনুমানিক ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর দুই পুত্র—বিশ্বরূপ সেন এবং কেশব সেন—পর্যায়ক্রমে পূর্ববঙ্গের সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং তাঁরা আরও কয়েক দশক তুর্কিদের আক্রমণ প্রতিহত করে পূর্ববঙ্গে সেন বংশের শাসন টিকিয়ে রেখেছিলেন [Majumdar, History of Bengal, Vol-I, 1943]। ত্রয়োদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে শেষ পর্যন্ত সেন বংশের অবসান ঘটে এবং দেব রাজবংশের উত্থান হয়।
ঐতিহাসিক মূল্যায়ন ও উপসংহার
ঐতিহাসিক মূল্যায়নে রাজা লক্ষ্মণ সেন একটি দ্বৈত সত্তার অধিকারী। একদিকে তিনি ছিলেন পরাক্রমশালী বিজেতা, সাম্রাজ্য সম্প্রসারণকারী এবং বিদ্যাৎসাহী এক মহান শাসক; অন্যদিকে তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায়টি চিহ্নিত হয়ে আছে চরম সামরিক ব্যর্থতা এবং রাজধানী থেকে পলায়নের গ্লানির মধ্য দিয়ে। সিংহাসনে আরোহণের পর তিনি যে সামরিক বীরত্ব দেখিয়েছিলেন, বার্ধক্যে এসে তা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। বয়সের ভার এবং দীর্ঘদিনের শান্তির কারণে সেন সেনাবাহিনীর যে শৈথিল্য দেখা দিয়েছিল, তুর্কি আক্রমণের সময় তা অত্যন্ত করুণভাবে প্রকাশ পায়।
তবে সামরিক পরাজয় সত্ত্বেও, বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে রাজা লক্ষ্মণ সেনের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। তাঁর রাজত্বকালেই সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য বাংলার মাটিতে চরম উৎকর্ষ লাভ করেছিল। গীতগোবিন্দের মতো কালজয়ী সাহিত্য, নব্যন্যায় ও স্মৃতিশাস্ত্রের চর্চা এবং বৈষ্ণব ধর্মের যে বীজ তাঁর সময়ে রোপিত হয়েছিল, তা পরবর্তীতে শ্রীচৈতন্যদেবের যুগে এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়। সুতরাং, রাজনৈতিক পতন সত্ত্বেও একজন সুশিক্ষিত, সংস্কৃতিবান ও শিল্পানুরাগী শাসক হিসেবে রাজা লক্ষ্মণ সেন প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে চিরকাল এক গৌরবোজ্জ্বল ও স্মরণীয় আসন অধিকার করে থাকবেন।