মেজর জেনারেল (অব.) ডা. সুশানে গীতি হলেন বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসের এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথম নারী মেজর জেনারেল (টু-স্টার র্যাংক) হিসেবে পদোন্নতি লাভ করার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেন। ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষশাসিত এবং অত্যন্ত কঠোর শৃঙ্খলাপূর্ণ সামরিক বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাঁর এই পদোন্নতি দেশের নারী ক্ষমতায়ন ও সামরিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মাইলফলক স্থাপন করেছে।
শিক্ষা ও সামরিক কর্মজীবন
ডা. সুশানে গীতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৮৫ সালে এমবিবিএস (MBBS) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার দিকে মনোনিবেশ করেন এবং ১৯৯৬ সালে হেমাটোলজি (রক্তরোগ) বিষয়ে মর্যাদাপূর্ণ এফসিপিএস (FCPS) ডিগ্রি লাভ করেন, যা ছিল এই বিশেষ ক্ষেত্রে কোনো নারী চিকিৎসকের জন্য অন্যতম বড় অর্জন। ১৯৮৬ সালে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরে ক্যাপ্টেন পদবিতে যোগদান করেন। সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন সামরিক হাসপাতালে প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ হিসেবে এবং জাতিসংঘ শান্তি মিশনে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের প্রধান এবং আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি (AFIP)-এর কমান্ড্যান্ট হিসেবেও অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়।
উত্তরাধিকার ও প্রভাব
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্রথম নারী মেজর জেনারেল হিসেবে ডা. সুশানে গীতির এই ঐতিহাসিক অর্জন সশস্ত্র বাহিনীতে নারী কর্মকর্তাদের পেশাগত উৎকর্ষ এবং শীর্ষ পদে পৌঁছানোর পথকে আরও সুদৃঢ় ও প্রশস্ত করেছে। চিকিৎসা সেবা ও সামরিক শৃঙ্খলার এক অনন্য সমন্বয় হিসেবে তাঁর এই বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী ক্যাডেট ও চিকিৎসকদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের সামরিক ও চিকিৎসাক্ষেত্রে নারীর অগ্রযাত্রার ইতিহাসে তাঁর নাম চিরকাল গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হবে।