দৈনিক আজাদ

‘দৈনিক আজাদ’ অবিভক্ত বাংলা ও পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) অন্যতম প্রভাবশালী এবং ঐতিহাসিক একটি বাংলা সংবাদপত্র। প্রখ্যাত সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতা মাওলানা আকরম খাঁ ১৯৩৬ সালের ৩১শে অক্টোবর কলকাতা থেকে এই পত্রিকাটির প্রকাশনা শুরু করেন। তৎকালীন বাঙালি মুসলমান সমাজের মুখপত্র হিসেবে এই পত্রিকাটির আত্মপ্রকাশ ছিল সংবাদপত্রের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দৈনিক আজাদ ব্রিটিশ ভারতে মুসলিমদের রাজনৈতিক অধিকার ও দাবি আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ এবং পাকিস্তান আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিল। সেই সময়ে বাঙালি মুসলিম সমাজের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক চেতনা জাগরণে এই পত্রিকাটির অবদান ছিল অপরিসীম। প্রখ্যাত সাংবাদিক মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, মুজিবুর রহমান খাঁ সহ তৎকালীন অনেক খ্যাতিমান লেখক ও সাংবাদিক এই পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।

আরো পড়ুন:  অফিসার্স ক্লাব, ঢাকা

১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটির কার্যালয় কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানে আসার পর এটি মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলনে অত্যন্ত ঐতিহাসিক ও সাহসী ভূমিকা পালন করে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দৈনিক আজাদ বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে এবং এর তৎকালীন সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীন এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আইন পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

আরো পড়ুন:  অধিনায়ক

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশেও বেশ কিছুদিন পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যাহত ছিল। তবে পরবর্তীতে আর্থিক সংকট, ব্যবস্থাপনার অভাব এবং নতুন ধারার সংবাদপত্রের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে নব্বইয়ের দশকের দিকে এই ঐতিহাসিক পত্রিকাটির প্রকাশনা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। প্রকাশনা বন্ধ হয়ে গেলেও, বাংলার সাংবাদিকতা, রাজনীতি এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ‘দৈনিক আজাদ’,এর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

আরো পড়ুন:  স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র