মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক। ১৯০৭ সালের ১ মার্চ চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রমিজ আলী পেশায় কলকাতায় চাকরি করতেন।
শিক্ষাজীবন
ওয়ালিউল্লাহ ১৯২৪ সালে সন্দ্বীপ কারগিল হাইস্কুল থেকে এন্ট্রান্স এবং ১৯৩২ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। এরপর তিনি ইংরেজি নিয়ে বরিশাল বি এম কলেজে অধ্যয়ন শুরু করেন, কিন্তু পরীক্ষার পূর্বে বার্মায় চলে যাওয়ার কারণে তাঁর আর চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা হয়নি।
রাজনৈতিক জীবন
ছাত্রজীবনেই তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। ব্রিটিশবিরোধী আইন অমান্য আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে ১৯২১, ১৯২২ সালে তিনি কারাবরণ করেন। প্রথম জীবনে তিনি মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। সেসময় তিনি ‘লালকোর্তা’ ও ‘ওলী গান্ধী’ নামে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৩৭ সালে তিনি মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত হন।
কর্মজীবন ও সাংবাদিকতা
কর্মজীবনে ওয়ালিউল্লাহ বার্মা, ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য সংবাদপত্রে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি যেসব পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
-
ডেইলি নিউজ
-
স্টার অব ইন্ডিয়া
-
দ্য ওরিয়েন্ট প্রেস অব ইন্ডিয়া
এছাড়া তিনি ১৯৫৪, ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত যুক্তফ্রন্ট সরকার ও পরবর্তী পাকিস্তান সরকারের তথ্য বিভাগের সহকারী সম্পাদক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
সাহিত্যকর্ম ও সম্মাননা
সাংবাদিকতার সুবাদে তিনি মহাত্মা গান্ধী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মতো বরেণ্য রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ভারতের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণের বিরল সুযোগ পান। এই ভ্রমণের অসামান্য অভিজ্ঞতা অবলম্বনে তিনি ১৯৬৭ সালে রচনা করেন তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মূল্যবান গ্রন্থ ‘যুগ বিচিত্রা’। এই অসাধারণ গ্রন্থটির জন্য তিনি ১৯৬৮ সালে সম্মানজনক ‘দাউদ পুরস্কার’ লাভ করেন।
তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
-
সংবাদ ও সাংবাদিক (১৯৪৩)
-
সেকাল ও একাল (১৯৫২)
-
ফাঁসির মঞ্চে (১৯৫২)
-
বিচিত্র জীবন (১৯৫২)
-
আমাদের মুক্তি সংগ্রাম (১৯৫২)
-
বাংলাদেশের অভ্যুদয়
-
সাংবাদিকের সঞ্চয়
-
যুগ বিবর্তন ও জীবন জাগার কাহিনী (১৯৮২)
মৃত্যু: ১৯৭৮ সালের ৩ আগস্ট এই গুণী সাংবাদিক, লেখক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।