বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) হলো বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এটি মূলত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এর মতো শেয়ার বাজারগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করে থাকে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালের ৮ জুন ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩’, এর অধীনে এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে এর নাম ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ থাকলেও ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এর নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ রাখা হয়। এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা।

উদ্দেশ্য ও ভিশন

বিএসইসি মূলত তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য বা ভিশন সামনে রেখে কাজ করে:

  • সিকিউরিটিজে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও অধিকার সার্বক্ষণিকভাবে রক্ষা করা।

  • একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অত্যন্ত দক্ষ সিকিউরিটিজ বা পুঁজিবাজার গড়ে তোলা এবং তা বজায় রাখা।

  • সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিমালার যথাযথ পরিপালন নিশ্চিত করা এবং নতুন সিকিউরিটিজ ইস্যু করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা।

প্রধান কার্যাবলি

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক হিসেবে বিএসইসি বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে:

  • ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করা।

  • স্টক ব্রোকার, সাব ব্রোকার, শেয়ার ট্রান্সফার এজেন্ট, মার্চেন্ট ব্যাংকার, পোর্টফোলিও ম্যানেজার এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের নিবন্ধন প্রদান ও তাদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা।

  • সকল প্রকার মিউচুয়াল ফান্ড এবং যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্পগুলোর (Collective Investment Scheme) অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ করা।

  • পুঁজিবাজারে যেকোনো ধরনের প্রতারণামূলক, বেআইনি ও অন্যায্য লেনদেন বা ট্রেড প্র্যাকটিস কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা এবং অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা।

  • বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী আর্থিক সাক্ষরতা বা ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রাম পরিচালনা করা।

প্রশাসনিক কাঠামো

প্রশাসনিক দিক থেকে বিএসইসি বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।

  • সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন সার্বক্ষণিক কমিশনারের সমন্বয়ে এই কমিশনের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়।

  • কমিশনকে সার্বিক সহায়তা করার জন্য সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এর সাথে সংস্থাটি নিবিড়ভাবে কাজ করে।

  • পুঁজিবাজার সম্পর্কিত শিক্ষা ও গবেষণার জন্য ২০১৯ সালের জুলাই মাসে এর অধীনে ‘বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেট’ (BASM) প্রতিষ্ঠিত হয়।