বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ, সংক্ষেপে এনটিআরসিএ (NTRCA), বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ সালের বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন (১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ২০০৫ সালের ১নং আইন) দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এনটিআরসিএ-এর মূল সদর দপ্তর ঢাকার রমনায় অবস্থিত হলেও বর্তমানে এর কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে ধানমন্ডির নায়েম (NAEM) ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবনে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রধান দায়িত্ব ও কার্যাবলি
এনটিআরসিএ মূলত দেশের বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নয়নে কাজ করে। এর প্রধান কার্যাবলি হলো:
-
দেশের মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের (স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা) প্রথম প্রবেশ বা এন্ট্রি লেভেলের পদসমূহে যোগ্য শিক্ষক ও প্রভাষক নিয়োগ নিশ্চিত করা।
-
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত শিক্ষক চাহিদা নিরূপণ করা।
-
শিক্ষকতা পেশায় নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও জাতীয়ভাবে শিক্ষার মান নির্ধারণ করা।
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে প্রার্থীদের এনটিআরসিএ কর্তৃক আয়োজিত শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
-
পরীক্ষার ধাপ: এই বাছাই পরীক্ষাটি সাধারণত বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয় এবং এটি মোট তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়, প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা।
-
পাস নম্বর ও শর্ত: প্রাথমিক বাছাই বা প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস করার জন্য ন্যূনতম ৪০% নম্বর পেতে হয়। তবে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা যায়।
-
যোগ্যতা ও বয়স: পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীদের ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে এবং আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর (মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য)।
-
আবেদন ও প্রবেশপত্র সংগ্রহের কাজ এনটিআরসিএ টেলিটক পোর্টাল-এর মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন করা হয়।
পরিচালনা পর্ষদ
এনটিআরসিএ একটি নির্বাহী বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই বোর্ডের প্রধান হিসেবে একজন চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেন। চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য ১০ জন সদস্য নিয়ে এই বোর্ড গঠিত। এর মধ্যে চেয়ারম্যানসহ তিনজন সদস্য সরকারিভাবে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত স্থায়ী কর্মকর্তা এবং বাকি সাতজন সরকার কর্তৃক নির্বাচিত অবৈতনিক সদস্য (যাঁদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকেন)।