ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা বলতে সাধারণত কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রের দ্বারা অন্য কোনো ভৌগোলিক অঞ্চল দখল করে সেখানে নিজস্ব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাকে বোঝায়। এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য থাকে দখলকৃত অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদকে শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করা। ঐতিহাসিকভাবে, আঠারো শতকের মাঝামাঝি থেকে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশদের প্রায় ২০০ বছরের শাসন ছিল একটি সুনির্দিষ্ট ঔপনিবেশিক কাঠামো। এই সময়কালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা ভারতের অর্থনীতিকে তাদের নিজস্ব শিল্পায়নের কাঁচামাল সরবরাহের উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছিল, যার ফলে এই অঞ্চলের নিজস্ব কৃষি ও হস্তশিল্প ভিত্তিক অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রশাসনিক কাঠামো, বিচার ব্যবস্থা এবং শিক্ষানীতি এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছিল যা স্থানীয় জনগণের নিজস্ব ঐতিহ্য ও স্বকীয়তার চেয়ে শাসকগোষ্ঠীর আনুগত্য ও স্বার্থরক্ষাকেই অধিক গুরুত্ব দিত। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও, বাংলাদেশের বিদ্যমান অনেক প্রশাসনিক রীতিনীতি, আইন এবং বিচারিক কাঠামোতে সেই ঔপনিবেশিক আমলের রেশ এখনো স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। ঔপনিবেশিক মানসিকতার প্রভাবে দীর্ঘ সময় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও শাসনব্যবস্থায় যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও শ্রেণিবৈষম্য তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা এখনো বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সংক্ষেপে, ঔপনিবেশিকতা কেবল ইতিহাসের পাতায় কোনো নির্দিষ্ট শাসনকাল নয়, বরং এটি একটি সুদূরপ্রসারী প্রক্রিয়া যা স্থানীয় উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে শাসকদেশের স্বার্থে নিয়ন্ত্রিত ও সীমাবদ্ধ করে রাখে।
Posted inইতিহাস