মোহাম্মদ ওজীহ

মোহাম্মদ ওজীহ ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ইসলামি পণ্ডিত (আলেম) এবং লেখক। আনুমানিক ১৮০৩ খ্রিষ্টাব্দে বিহারে জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর শিক্ষা এবং সম্পূর্ণ কর্মজীবন কেটেছে কলকাতায়। তিনি কলকাতার বিখ্যাত আলিয়া মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা লাভ করেন এবং সেখানেই শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এই মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রধান হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

তৎকালীন কলকাতার মুসলিম সমাজে তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ইসলামি ধর্মতত্ত্ব এবং আরবি সাহিত্যে তাঁর ছিল অগাধ পাণ্ডিত্য। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ শাসিত ভারতকে ‘দারুল হরব’ বা শত্রুভূমি হিসেবে গণ্য করতেন। এই যুক্তিতে তিনি মত প্রকাশ করেছিলেন যে, এ দেশে জুমা এবং ঈদের নামাজ আদায় করা অবৈধ ও অযৌক্তিক। নিজের এই মতামতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি ‘দাফউশ শুরুর আন মাসায়িলিন নুযুর’ শিরোনামে একটি পুস্তিকাও প্রকাশ করেছিলেন।

আরো পড়ুন:  মোহাম্মদ ওজীহ

শিক্ষকতা ও ধর্মীয় চর্চার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত কলকাতার প্রথম মুসলিম সংগঠন ‘আঞ্জুমানে ইসলামি’-র সহ-সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে নওয়াব আবদুল লতিফ প্রতিষ্ঠিত ‘মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি’-র প্রথম সভাপতি হিসেবেও তিনি অলংকৃত হন।

তাঁর সাহিত্য ও ধর্মীয় গবেষণার পরিধিও ছিল বেশ বিস্তৃত। ১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি উর্দু ভাষায় ‘নিযামুল ইসলাম’ নামক একটি ধর্মীয় ব্যাখ্যা-পুস্তক রচনা করেন। এই গ্রন্থে তিনি প্রশ্নোত্তর পদ্ধতিতে শরিয়ত সম্পর্কিত নানা জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং সুন্নি চার মাজহাবের মধ্যে হানাফি মতাদর্শের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা করেন। তাঁর অগাধ জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর শিষ্য নাসিরুদ্দীন সামী ফারসি ভাষায় একটি সুদীর্ঘ কাসিদা (প্রশস্তিমূলক কবিতা) রচনা করেছিলেন।

আরো পড়ুন:  মোহাম্মদ ওজীহ