আজিমপুর কিন্ডারগার্টেন স্কুল ছিল বর্তমানের ঐতিহ্যবাহী ‘অগ্রণী স্কুল ও কলেজ’-এর আদি নাম এবং ভিত্তি। ১৯৫৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. কাজী আনোয়ারা মনসুর অত্যন্ত সীমিত পরিসরে, মাত্র ১৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ঢাকার আজিমপুর এলাকায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করেন। তৎকালীন সময়ে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি ছিল এক সাহসী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার গুণগত মান এবং নিয়মানুবর্তিতার জন্য খ্যাতি অর্জন করে। প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায়ে স্কুলটি মূলত ইংরেজি মাধ্যম হিসেবে পরিচালিত হতো। তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতায় একটি কিন্ডারগার্টেন হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, ড. কাজী আনোয়ারা মনসুরের সুদক্ষ নেতৃত্বে এটি খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আজিমপুর এলাকার মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের অভিভাবকদের কাছে এটি প্রথম পছন্দ হিসেবে জায়গা করে নেয়।
দশকের পর দশক ধরে এই কিন্ডারগার্টেন স্কুলটি শিক্ষার স্তর বিন্যাসে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। ১৯৬৭ সালে এটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে উন্নীত হয় এবং নাম পরিবর্তিত হয়ে রাখা হয় ‘অগ্রণী বালিকা বিদ্যালয়’। সেই সময় থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলা প্রবর্তন করা হয়। পরবর্তী ধাপে, ১৯৯৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক স্তর বা কলেজ শাখা চালু হওয়ার মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ ‘অগ্রণী স্কুল ও কলেজ’-এ রূপান্তরিত হয়।
আজকের যে বিশাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অগ্রণী স্কুল ও কলেজ, যার মাধ্যমে আজ প্রায় ৪,০০০ শিক্ষার্থী শিক্ষালাভ করছে, তার শিকড় বা প্রাণকেন্দ্র ছিল এই ছোট আজিমপুর কিন্ডারগার্টেন স্কুল। ড. কাজী আনোয়ারা মনসুরের সেই দূরদর্শী চিন্তা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজিমপুরে নারী শিক্ষার একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে। সংক্ষেপে, আজিমপুর কিন্ডারগার্টেন স্কুল কেবল একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল না, এটি ছিল সেই নার্সারি, যা থেকে আজ হাজার হাজার শিক্ষিত ও দক্ষ নারী সমাজ ও রাষ্ট্রে নিজেদের অবদান রেখে চলেছেন। এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য কেবল একটি ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের নারী শিক্ষা বিস্তারের একটি জীবন্ত মাইলফলক।